সম্পাদকীয়

 


এই পত্রিকা সমাজতাত্ত্বিক শ্রী প্রদীপ বসুর স্মৃতির উদ্দেশ্য আরম্ভ হয়েছিল। দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেছে। এই বছর আমরা মৌলিক প্রবন্ধ বেশি প্রকাশ করার আশা রাখি I

আমাদের পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রবন্ধ 'স্ত্রী পর্ব'  ক্রমশ প্রকাশিত হচ্ছে । এতে আমরা মহাভারতের বিভিন্ন নারী চরিত্র বিশ্লেষণ করব। 

মহর্ষি বেদব্যাস রচিত মহাকাব্য ‘মহাভারত’ প্রধানত কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে হস্তিনাপুরের সিংহাসন অধিকারের জন্য যে যুদ্ধ হয়েছিল তার কাহিনী । স্বয়ং মহর্ষি বেদব্যাস ইহাকে হিমালয় ও সমুদ্রের সহিত তুলনা করে বলেছেন : 

"হিমালয়ের ন্যায় মহাভারত অতি তুঙ্গ ও বিরাট, আবার রত্নাকার সুগভীর সমুদ্রের ন্যায় ইহা অতলস্পর্শী এবং অসংখ্যা রত্নের আকার”(…).মহাভারতের প্রধান কাহিনী কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধের বর্ণনার সাথে সাথে অন্য অনেক কাহিনী যুক্ত হয়েছে তাই মহাভারত একাধারে ধর্ম শাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র ,কামশাস্ত্র, মোক্ষশাস্ত্র, পুরাণ, ইতিহাস ও কাব্য" I  (শ্রী সুখময় ভট্টাচার্য, ‘মহাভারতের চরিত্রাবলী’( নিবেদন) ।


শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, "রামায়ণ মহাভারতকে মনে হয় যেন জাহ্নবী ও হিমাচলের ন্যায় তাহারা ভারতেরই, ব্যাস বাল্মীকি উপলক্ষ মাত্র।(...) এইজন্যেই শতাব্দী পর শতাব্দী যাইতেছে, কিন্তু রামায়ণ মহাভারতের স্রোত ভারতবর্ষে আর লেশমাত্র শুষ্ক হইতেছে না (...) ভারতবর্ষে যাহা সাধনা, যাহা আরাধনা, যাহা সংকল্প তাহারই ইতিহাস এই দুই বিপুল কাব্যহর্মের মধ্যে চিরকালের সিংহাসনে বিরাজমান"। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘প্রাচীন সাহিত্য,’ রবীন্দ্র রচনাবলী তৃতীয় খণ্ড, বিশ্বভারতী, পৃষ্টা ৭১১- ৭১২।)


মহাভারতে যুদ্ধের কাহিনীতে নৃপতি, সেনাপতি, মন্ত্রীবরদের শুধু জীবন আলেক্ষ্য রচিত হয়েছে তা নয় Iএর সাথে যেমন বিভিন্ন মুনি ঋষিদের আখ্যান ও কাহিনী আছে তেমনি ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় স্ত্রী লোকেদের জীবন কাহিনী ও যুক্ত হয়েছে। 

যুদ্ধ শেষে মহাভারতের ‘স্ত্রীপর্ব’ যুদ্ধের বিপুল সংখ্যায় মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকার দৃশ্যের বর্ণনা আছে। হিংস্র পশুপাখিদের দ্বারা মৃতদেহ ভক্ষণের দৃশ্য যেমন হৃদয়বিদারক তেমনি বিভৎস। যুদ্ধের জন্য সমাজে লোকক্ষয়, পরিবার ধ্বংস, অসংখ্য স্ত্রী লোকেদের অসহায়তা, প্রিয়জনের মৃত্যুশোক বর্ণিত হয়েছে। যুদ্ধ পুরুষদের দেয় জয় ও ক্ষমতা আর স্ত্রী লোকেদের দেয় শোক ও অসহায়তা। 

এই স্ত্রীপর্বে গান্ধারী যেভাবে যুদ্ধে হত প্রতিটি ব্যক্তির মৃতদেহ বর্ণনার সাথে সাথে তাদের পরিবারের স্ত্রী লোকেদের অসহায়তা, বর্ণনা করেছে তা যুগে যুগে প্রত্যেক যুদ্ধের কাহিনীতেই হয়ে থাকে। 

এই মহাকাব্যে যে সমস্ত স্ত্রীলোকদের জীবন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে তাতে তাদের জীবন সংগ্রাম অসহায়তা, স্বপ্ন প্রভৃতির সাথে বর্তমান সমাজের স্ত্রীলোকদের জীবন সংগ্রামের ও সমস্যার সহিত তেমন কোন পার্থক্য নেই।

আমরা শুরু করেছি অম্বা চরিত্র দিয়ে। এছাড়া আমাদের ধারাবাহিক উপন্যাস 'কুন্তীর আত্মাকথা' প্রকাশিত হচ্ছে।নারীদের স্বাধীনতা ও তাদের উপর নির্যাতন দিয়ে আজ গোটা সমাজ উত্তাল এই লেখা গুলি বর্তমানে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ  তা  পাঠক বিচার করবে। 

ভবিষ্যতে আমরা দেশ ভাগ নিয়ে লেখা আহ্বান করার ও একটি প্রিন্ট সংখ্যা প্রকাশ করার পরিকল্পনা রাখি । 



শুক্লা বসু

২১/০৮/২০২৪. 


Comments