শ্রীমতি ইরাবতীর ধারাবাহিক বড় গল্প, " কুন্তীর আত্মকথা "


Chapter 1



মহাকাব্যে মেয়েদের  শৈশব থাকে  না । তারা আসে হয়ত বা কোন রাজা বা ঋষিকে বিবাহ করে পুত্র সন্তান দিতে । তারপর সেই মেয়েরা হারিয়ে যায় ।  রাজা  দুষ্মন্ত যখন ভরতকে নিজ পুত্র ও উওরাধিকার  হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন তারপর শকুন্তলার কি হয়েছিল ? বা শর্মিষ্ঠার  কি হয়েছিল তার কনিষ্ঠ পুত্র পুরু রাজা হওয়ার পর ?  কে জানে। তবুও মহাভারতের রচয়িতা কবি  ঋষি ব্যাস আমার  শৈশবের একটি ঘটনা বলেছেন।  

জন্মকালে আমার নাম রাখা হয়েছিল পৃথা। আমার  পিতা শূরসেন যাদব বৃষ্ণি কুলের প্রধান ছিলেন। যাদবরা কুরু রাজা  যযাতির জ্যেষ্ঠ পুত্র যদুর বংশধর ।  যাদব বৃষ্ণিদের  রাজ্য যমুনা তীরবর্তী অঞ্চল মথুরা ও ব্রজ ভূমি। সেই যখন আমি আমার সহচরদের সাথে খেলছিলাম, তখন আমার পিতা আমাকে নিয়ে গেলেন তার বন্ধু ও আত্মীয় কুন্তিভোজের কাছে। শুনেছিলাম  কুন্তিভোজ  নিঃসন্তান ছিলেন তাই আমার পিতা কথা দিয়েছিলেন যে তিনি তার  প্রথম সন্তান ওনাকে দেবেন।  যেন আমি কোন সম্পত্তি যা চাইলেই নিজের থেকে অন্যের অধিকারে দিয়ে দেওয়া যায়।   তবে প্রথম সন্তান পুত্র  হলেও কি একই ভাবে সেই সন্তানকে দিয়ে দিতেন? না  সঠিক ভাবে বলতে গেলে বলতে হয় তার কথা ছিল প্রথম কন্যা সন্তানকে  তার আত্মীয়কে দিয়ে দেবেন। 

কুন্তিভোজ কন্যা হিসেবে আমার  নাম হল কুন্তী। শুধু নিজের নাম থেকে পিতার নামে পরিচিতি ছাড়া আর কত কি বদলাবে তখনও জানি না। শৈশবকালে নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছে অনেক গল্প শুনতাম । তখন  মা সন্তানসম্ভবা। কদ্রু আর বিনতা । একজন  একহাজার  সন্তানের জননী, নাগ বংশের মাতা আর আরেকজনের দুটি সন্তানের অরুণী ও  গড়ুর । দুই মায়ের প্রতিযোগিতা জয় পরাজয় সবই নির্ভর তাদের পুত্র সন্তানের ওপর  । আর জয়  কার হবে শেষ অবধি যে মায়ের হাজার সন্তান না যার দুটি ? এই গল্প বলছে হাজার সন্তান তুলনায় গড়ুর এর মত একটি সন্তান এক মায়ের সমস্ত দুঃখ কষ্ট দূর করতে পারে ।সেই মায়ের কাছে শোনা গল্পগুলো মনে আছে আর মায়ের মুখটা  ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে গেছে সময়ের সঙ্গে । পরে  শুনেছিলাম যে আমার মা এক পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন যে সম্পর্কে  আমার  ভ্রাতা । ওর নাম বাসুদেব । 

কুন্তিভোজ ছিলেন ভোজদের প্রধান  ।কুন্তিভোজের দুই রাণী তারা সম্পর্কে বোন ।  এরা কেউই  আমার  মা হয়ে ওঠেননি তার কারণ এদের তো আর কোন কন্যা সন্তানের প্রয়োজন ছিল না । সমাজের রীতি অনুযায়ী এদেরও পুত্র সন্তানের প্রয়োজন ছিল।  

কুন্তিভোজের রাজ্য বা প্রাসাদ কোনোটাই খুব বড়  ছিল না ।  কুন্তিভোজ ভেবেছিলেন মেয়েদের যোগ্য ভাবে তৈরি করার উপায় খুব কম বয়সেই তাদের  রন্ধনশালার দায়িত্ব ভার দেওয়া ।  আজ্ঞা বসত  প্রত্যেকদিন ব্রাহ্মণদের ভোজন, সেই প্রাসাদে দেবতাদের মন্দিরে নিবেদন, পুজো, সেই সব ব্যবস্থায় পটু হয়ে উঠেছিলাম। ।দাস দাসী তো অনেক ছিল তবে তাদের মধ্যে শুধু  আমার ধাত্রীমা ছাড়া কেউ আপন হয়ে ওঠেনি । তাই এত সব কাজকর্মের মধ্যেও এই প্রাসাদে আমি একা। 

পরবর্তী কালে দুই ভোজ রাণীর অনেকগুলি  পুত্র সন্তান হয় তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুরুজিৎ। পুরোজিৎকে যখন গুরুজী  শিক্ষা দিতে আসতেন তখন আমি শুনতাম । গুরুজী এক বয়স্ক ব্রাহ্মণ ছিলেন । রাজনীতি কূটনীতি ইত্যাদী বিষয়ে  আমার  আগ্রহ  ছিল মনে অনেক প্রশ্ন ছিল।  

গুরুজী বলতেন ‘দেবতাদের সব সময় তুষ্ট  রাখতে হয়  যেভাবে হোক । যাগ যজ্ঞ করে কি অন্যথা। এই ছিল গুরুজীর  বক্তব্য ।দেবতাদের একগুয়েমী থাকে  তারা রুষ্ট হলে বিপদ।’

‘তারা খুব একটা চরিত্রবান  হয়না গুরুজী,’  আমি বলে উঠলাম । ‘অহল্যা ইন্দ্রের কাহিনী কে না জানে। তার পর চন্দ্র তো তার গুরু বৃহস্পতির স্ত্রী তারা কে  অপহরণ করে ছিলেন ।’ 

‘কুন্তী তবুও তারা দেবতা। তাদের মৃত্যু নেই পতন নেই।’

অনেক সময় গুরুজী আর্যবর্ত রাজাদের কাহিনী শোনাতেন । এদের মধ্যে বেশিরভাগ সময় থাকত চন্দ্রবংশী কুরুদের কাহিনী । 

‘রাজন আপনার মেয়ে বড় বুদ্ধিমতী,’ গুরুজী একদিন কুন্তিভোজকে বলেছিলেন । ‘যে  রাজ্যে রাণী  হবে সেই রাজ্যের রাজা বড় ভাগ্যবান হবেন ।’

একদিন কুন্তিভোজ বললেন ভোজ রাজ্যে  ঋষি দুর্বাসা আসছেন । তাকে  যথাযত সেবা করতে হবে। তিনি তুষ্ট হলে ভালো । রুষ্ট হলে বিপদ।  এও শুনেছিলাম যে সেই ঋষির ক্রোধ অত্যধিক।  তিনি রুষ্ট হলে অভিশাপও দিতে পারেন  । 

সেই দিন আমার কুন্তিভোজকে পিতা বলে সম্বোধন করতে ইচ্ছা করেনি। উনি কেমন পিতা যিনি জেনে শুনে নিজ কন্যাকে এমন একজন ঋষির সেবায় নিযুক্ত করছেন যিনি কিনা অভিশাপ দিতে পারেন? পিতা কোথায়  বিপদ থেকে সন্তান কে আড়াল  করবেন না নিজে তার পালিত কন্যাকে  বিপদের দিকে ঠেলে  দিচ্ছেন।  কুন্তিভোজের  স্বার্থপরতায় ও পলায়ন প্রবণতায় আমার এটাই  ওনাকে বলতে ইচ্ছে করছিল যে উনি সত্যিকারের পিতা হয়ে ওঠেননি । হলে এরূপ সিদ্ধান্ত কোনো কালেই নিতে পারতেন না । তবে কি এই লাঞ্ছনা আমি  কন্যা সন্তান বলে ? 

‘রাজন আপনার আজ্ঞা আমি নির্দ্বিধায় পালন করব। আপনাকে  অভিযোগের কোন সুযোগ দেব না ।’ এটুকু বলেছিলাম।

কুন্তিভোজ প্রস্থান করলেন কিন্তু যাওয়ার আগে বললেন ‘এটা ভুলে যেও না যে এতে শুধু আমার সন্মান নয় রাজ্যের কল্যাণ ও হীত  জড়িয়ে আছে ।’ 

পুরুষরা যেমন রাজ্য রক্ষার জন্য অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে আমারা মেয়েরাও হয়ত নিজের পিতার রাজ্যের জন্য যুদ্ধ করি অন্য ভাবে। আমাদের অস্ত্র অন্য  যেমন আমাদের ধর্ম সেটা হল বাধ্যতা । আমি শুধু বাধ্য মেয়ের মত মাথা নেড়েছিলাম ।  

ঋষি দুর্বাসা   লম্বায় দীর্ঘ, পরণে গেরুয়া রঙের বস্ত্র, হাতে কমন্ডলু, মাথায় জটা এবং সবথেকে বেশি লক্ষ্যপূর্ণ ওনার দুটি চোখ যার ক্রোধ হয়ত পৃথিবীকে ভস্ম করে দিতে পারে। 

‘প্রণাম ঋষিবর,এই আমার কন্যা কুন্তী ঋষিবর। ও আপনার আতিথেয়তায় ও  সেবাতে কোন ত্রুটি রাখবে না,’  কুন্তিভোজ ঋষি  দুর্বাসাকে সম্বোধন করে বললেন।

আমাকে  দেখে  ঋষি দুর্বাসার  সামান্য ভ্রুকুটি কুঁচকে গেল। কিন্তু কিছু বলার আগে ভোজ রাজা হাতজোড় করে অনুনয় করলেন,

‘ঋষিবর ক্ষমা করবেন কিন্তু আমি শুধু ওর পিতা বলে নয় আমাদের কুলগুরু ও স্বয়ং বলেছেন কুন্তী খুব বুদ্ধিমতী। আর  ও কন্যা তাই নারীর নিজ গুণ ধৈর্য্য ওর আছে। আপনাকে অসন্তুষ্ট হওয়ার  কোনরকম সুযোগ দেবে না। ’ ভোজ রাজা বিনীত প্রার্থনা করলেন।

ঋষি  দুর্বাসার বসবাসের জন্য  রাজপ্রাসাদ থেকে কিছুটা দূরে অশ্ব নদীর তীরে সব রকম সুব্যবস্থা সহ একটি কুটির তৈরি করা হয়েছিল। । আর তারপর থেকেই শুরু হল ঋষি দুর্বাসাকে সেবার অক্লান্ত পরিশ্রম।  শুধু  কোন অতিথির মত নিয়মিত ভোজন এবং পূজার ব্যবস্থা শুধু  দেখতে হত তা নয়।  উনি কখন আসবেন বা কখন গমন করবেন সবই ওনার ইচ্ছে মতন। আগের থেকে কিছুই জানাতেন না। হঠাৎ হয়ত বলতেন যে ওনার  আজকে এ রূপ ভোজন শীঘ্র প্রয়োজন সেটি কোন অসময়ও হতে পারে।  আবার হয়ত বা  জানাতেন না কিন্তু সেইদিন  ওনার শিষ্যবর্গরা এসে পরত এবং তখনই  তড়িঘড়ি সব ব্যবস্থা করতে হত। আমাকে সাহায্য করতে আমার সঙ্গে  তো ধাত্রী মা ও দাস-দাসী ছিল তবুও  আমি  হাঁপিয়ে উঠছিলাম। ওনাকে খুশি রাখা সত্যিই কঠিন ছিল। শেষে  একদিন ঋষি দুর্বাসা  ঘোষণা করলেন ওনার ভোজ রাজ্যে থাকার সময় সমাপ্ত হয়েছে।

‘কুন্তী তোমার  একনিষ্ঠ সেবা ও পরিশ্রমে আমি সন্তুষ্ট, তাই আমি তোমাকে বরদান করতে ইচ্ছুক ।’

কি বর চাইব? আমি বুঝতে পারছিলাম না। আবার ভয় করছিল পাছে উনি ক্রেধিত হন। 

তখন  ঋষি  দুর্বাসা উনি এরূপ বললেন:

‘আচ্ছা বেশ, তুমি ক্ষত্রিয় নারী তোমার সৌন্দর্য ও   বুদ্ধি দুই আছে ।  বীর ও সুপুরুষ পতিলাভ তোমার হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।  তবে  আমি তোমাকে সেই মন্ত্র দিচ্ছি  যা দিয়ে তুমি যে কোন দেবতা কে আহ্বান  করে  সেই দেবতা দ্বারা ধার্মিক ও  বীর পুত্র লাভ করতে পারবে ,  কারণ এটা মনে রেখো  নারীর শক্তি হল তার বীর পুত্র।’যেটা বুঝলাম বীর পুত্র জন্ম দাওয়া মেয়েদের জীবনের লক্ষ্য ও ধর্ম। 

ঋষি  দুর্বাসা যাওয়ার পরবর্তী  কিছুদিন  আমার    ক্লান্তির অবসান হল। তখন  হয়ত কৈশোর থেকে যৌবনে পা দেব। পৃথিবীর সবকিছুই নতুন করে নতুন অনুভূতি। 

সূর্যের রশ্মি  বড় স্নিগ্ধ লাগছিল  যেন এক নতুন  অনুভূতি ।  না কি কম বয়সের কৌতুহলতা জানি না  পূর্বে সূর্যের প্রতি উদ্দেশ্য করে সেই   দূর্বাসার   মন্ত্র উচ্চারণ করে সূর্য কে আহ্বান করে ফেললাম  । তার পর সেই সপ্তরথ চড়িয়ে তার  মনুষ্য অংশ নিয়ে তপন সূর্য   আমার  সামনে উপস্থিত হলেন । 

তখন স্বাভাবিক ভাবে আমি অতীব ভীত ।  ‘ক্ষমা করবেন সূর্যদেব, আমি কৌতূহলবশত আপনাকে আহ্বান করেছি। আপনি ফিরে যান। আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থী।’

এইরূপ আমার প্রার্থনায় কোথায় যেন একটা সূর্যের সন্মান ক্ষুন্ন হল। ‘কন্যা আমি দেবতা, আমি অন্যের আদেশ উপদেশ শুনতে অভ্যস্ত নই ।’

'নারীর ক্ষমাপ্রার্থনা কখন অগ্রাহ্য হয় না সূর্যদেব।’ 

এই কথাটি হয়ত মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু দেবতার ক্ষেত্রেও কি? যাই হোক এই কথা  বলা সত্যেও অর্কদেব অনড় আমার  কাতর অনুরোধ  ও ক্ষমা প্রার্থনা  সবই বিফলে গেল । 

‘আমি সূর্য  সেই দেবতা যে পৃথিবী সঞ্চালনা করে । দেবতা প্রাপ্তি অনেক কষ্ট তপস্যায় হয় কন্যা । এই মন্ত্রের এরূপ দুর্ব্যবহার  হলে আমি সেই ঋষি যে এই মন্ত্র  বরদান করেছে  তাকে ভষ্ম করে দেব। এবং এরূপ অযাচিত সীমানালঙ্ঘনের জন্য তোমার পিতা কেও কঠিন শাস্তি উপভোগ করতে হবে। আমি সূর্যদেব কি এক সামান্য কন্যার প্রত্যাখ্যান গ্রহণ করে অন্য দেবতাদের হাসির পাত্র হব? দেবসঙ্গম ব্যতীত  আমি প্রস্থান  করব না।’

‘কিন্তু আমি কন্যা আমার কুমারীত্ব হারালে আমার পিতাকে  আমি কি উত্তর দেব ,’ আমি প্রার্থনা করলাম।’   

সূর্যদেব বললেন ‘শোনো কন্যা শব্দ উৎপত্তি কাম থেকে। যে কন্যা সে  চিরমুক্ত। এটি হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম এবং এর অন্যথা হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মের বিকৃতি। তাই তোমার পিতা মাতা বা আত্নীয় কারোর   সম্মতির তোমার প্রয়োজন নেই । তুমি কন্যা এখন প্রকৃতির ন্যায়ের অধীন । মনুষ্যের আইন  যা  প্রকৃতিকে মানে না তা বর্জিত করা শ্রেয়।’

তবে উপায়? 

‘তোমার কুমারীত্ব থাকবে এবং এই পুত্র যে জন্মাবে সে হবে মহাবীর।

‘যদি তাই হয় তবে এই পুত্রকে আপনার  কবচ ও কুণ্ডল প্রদান করুন সূর্যদেব।  আমার পুত্র  যেন আপনার মত  সুদর্শন  হয়, শুধু বীর নয়  সে যেন ধর্মজ্ঞ ও হয়। 

‘তাই হবে  ভোজ কন্যা।’

এর পর কিছুটা মনে আছে কিছুটা নেই। সূর্যের রশ্মি  গর্ভ ভেদ করতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম । 

কিছু মাস যাবৎ শুধু ধাত্রী মা জানতেন আমি অন্তঃসত্ত্বা। রাণীদের পুত্রসন্তান হয়েছে দাস দাসী প্রাসাদে বাড়ন্ত । আমাকে অত প্রয়োজন পড়ত না  । তখন  নিজ কক্ষে নির্বাসনে শেষ কয়েক মাস  কাটিয়েছিলাম । তারপর দেহে  কবচ  ও কানে  কুন্ডাল নিয়ে  একদিন  আমার  প্রথম পুত্র সন্তানের  জন্ম হল।  

শাস্ত্র বলে কানীন পুত্র কুমারী মায়ের ভবিষ্যতে বিবাহিত স্বামীর উত্তরাধিকারী । কিন্তু সমাজ  বলে মেয়েদের একবারই বিবাহ হয়। তাই সমাজ অনেক কঠিনতর  নিয়ম  মেয়েদের ওপর চাপিয়েছে এবং বিবাহ পূর্ব সন্তান এখন সমাজে লজ্জার কারণ। আইন আইনের জায়গায় আছে কিন্তু সমাজ মেয়েদের কঠিন শৃঙ্খলায় বেধেছে। আর আমি শুধু কুমারী নয় আমি তাছাড়া পালিত। পিতা ও আত্মীয়দের ভয়ে তাই কাতর ক্রন্দনে  সেই দিন আমার প্রথম পুত্র সন্তানকে ত্যাগ করতে  হয়েছিল। ঠিক করলাম  এক বেতের পেটিকায় অনেক ধনরত্ন সমেত  তাকে ভাসিয়ে দেব।  

‘আমি ভাগ্যহীনা।  সেই মা যে  তোমার বাল্যকালে তোমাকে স্তন্যপান করাবেন তার কি ভাগ্য ।   সেই আরো ভাগ্যবতী কারণ যখন হামাগুড়ি দাওয়া ধুলো বালি মাখা শরীরে তুমি অস্পষ্ট শব্দ বলবে তখন সেই ভাগ্যবতী একমাত্র স্নেহ দৃষ্টিতে দেখবে  ।  আর পুত্র যখন  শৈশব কাল পেরিয়ে যৌবন কালে তোমার  সিংহতেজ সেই ভাগ্যবতীর গর্ব সঞ্চার করবে ।’

 ‘হে পুত্র তোমার গায়ে এই  কবচ  কানে কুণ্ডল দেখলে  আমি তোমাকে  বিদেশেও চিনতে পারব।’

‘সূর্য দেব তোমাকে রক্ষা করুক পুত্র। বরুণ দেব রক্ষা করুন । সকল দেবতারা তোমাকে রক্ষা করুন।’


                                                                                                                                                ক্রমশ 

Comments

Popular Posts