কবিতাগুচ্ছ / বিপ্লব ঘোষ






অপমান 
বহুদিন ধরে কোন অপমান নেই 
একদিন এই অপমানগুলি নিয়ে 
বাড়ি ফিরে দেয়ালে বাঁধিয়ে রাখতাম 
আমি আরো সোজা হয়ে পথে বেরতাম ।

একদিন অনেকগুলো ঘর বোঝাই 
সেসব অপমান ফুল হয়ে ফুটেছে।

বহুদিন ধরে কোনো অপমান নেই 
যে অপমানের বীজ আয়ূ দিয়েছিল 
আজ তবে কি মেহগনি পাতার মতো ঝরে যাবো!

আমার এখনও বেহালা তৈরি হয়নি।
-----------------------

ব্যর্থ প্রেম 

যতবার ভুলতে চেয়েছি 
ঠিক ততবার গিয়েছি 
সেই তোমারই ঠিকানায় 
আমার তবে নাও ছিল সখী কোথায় ! 

আষাঢ়ের শেষ মেঘ সীমান্তের গা-য় 
স্টেশন থেকে রাতের ট্রেন চলে যায়।

তবু কেউ যেন না জানুক 
আমাদের না মনে রাখুক।

এক আকাশের নীচে দেখা হয়েছিল 
কে জানে কেন যে দুটি পথ বেঁধে দিল।

জীবনের মানে- হারানো, কিছু পাওয়া
শুধু এই আসা আর যাওয়া।

বাতিঘর তীরে হাতছানি দিয়ে ডাকে 
হায়রে প্রেম! ফুরলো সেই কোন ফাঁকে !  
-----------------------
 
প্রিয় 

আমি মেঘ হতে পারি প্রিয় 

তুমি বৃষ্টি হয়ে ভাসাও নদী 

আমি নদী হয়ে ভাসতে পারি 

তুমি সাগর.হয়ে ডাকো যদি 



লেখক পরিচিতি : 
বিপ্লব ঘোষের জন্ম ২৩ ফেব্রুয়ারি,১৯৫৩ কলকাতায়।.বাণিজ্যে স্নাতক। ওষুধ নির্মাণ সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন কুড়ি বছর। কবিতা উপন্যাস মিলিয়ে পনেরটি বই প্রকাশিত। উৎসব সম্মান ২০০৪ (আমেরিকা),জন্মদিন ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ নাগরিক সম্মান পেয়েছেন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর পক্ষ থেকে।এছাড়া নিজের লেখা নিয়ে দুটো শর্ট ফিল্ম। 

কবির জীবন এক মহাশোকের।প্রথম স্ত্রী মারা যান ক্যান্সারে। ২০০১ বকখালির সমুদ্রে ডুবে যায় চোখের সামনে উনিশ বছরের ছেলে সানি। তার স্মৃতিতে একটি কিন্ডারগার্টন স্কুল করেছেন নিজের বাড়িতে ২০০৪-এ।বড় মেয়ে ২০২০- তে এক বিরল অসুখে চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে। তবু তিনি নীরবে সৃষ্টিতে মগ্ন থাকেন। দেখে মনে হয় সন্ন্যাসী রাজা।ভিতরের রক্তক্ষরণ বুঝতে দেন না।বহু গানের গীতিকার ও সুরকার। বিদেশের পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। প্রকৃতির টানে বেড়িয়ে পড়েন।নদী তার প্রিয়। বর্তমানে স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নিয়ে নিজেদের বাগানঘেরা বাড়ি কলকাতার কেষ্টপুরে থাকেন।

Comments