বিনীতা কর্মকারের কবিতা : নারী শিক্ষা


নারী শিক্ষা

আজ নারীরা হচ্ছেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,

হচ্ছেন তারা অগ্রগতির মন্ত্রে দীক্ষিত।

তবে পূর্বে পথ ছিল না মোটেই সুগম,

পেরিয়েছিলেন বাঁধা, পথ যে ছিল দুর্গম।

গৌরী দানের নামে চলতো কত অত্যাচার,

বিধবা হলে সইতে হতো শত অনাচার।

এমন পরিবেশে নারী শিক্ষা ছিল অনিবার্য,

আপ্রাণ লড়াইয়ে 'ঈশ্বর' হলেন কৃতকার্য।

গড়ে তুললেন বিদ্যালয় নারী শিক্ষাদানে,

শুরু হলো পাঠ, ২১ জন ছাত্রীর যোগদানে।

শত বিদ্রুপেও মনোবল হারায়নি যাদের,

কারণ 'ঈশ্বর' সদাই ছিলেন পাশে তাদের।

 যে পথ দেখিয়েছিলেন সর্বস্ব উজাড় করে,

নারীরা এগিয়েছেন সেই আলোর পথ ধরে।




বিনীতা কর্মকার একাধারে শিল্পী এবং লেখিকা। কখনও তার কলমে আবার কখনও তুলিতে উঠে আসে জীবনের খন্ড চিত্র। সেই খন্ড চিত্র অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুনিয়ে যায় নারীর বঞ্চনার যন্ত্রণার আলেখ্য।  স্কুলে পড়ার সময় ম্যাগাজিনের ছবি আঁকা এবং কলেজ জীবনে দেওয়াল পত্রিকায় ছোট গল্প লেখা দিয়েই তার লেখালেখির শুরু ।  গল্প লেখার পাশাপাশি তার শিল্পীসত্তা তাকে অংশীদার করে বিভিন্ন আর্ট এক্সিবিশনের। সেইখানে খুঁজে পাওয়া জীবনের গল্পেরা হয়ে ওঠে তার গল্প ও কবিতার উপজীব্য। চিত্রশিল্পীদের মনের কথা কলমের আঁচড়ে কবিতার পাতায় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।  ২০১৮ থেকে কলকাতার বিভিন্ন গ্যালারিতে দলগত চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন এবং পুরস্কৃত হন। পোল্যান্ডের একটি এক্সিবিশনে তাঁর দুটো ছবি প্রদর্শিত হয়। বর্তমানে তিনি "আর্ট ওয়ার্ল্ড" নামক একটি সংস্থার কর্ণধার। "রে আর্ট ফেস্ট" নামক সম্প্রতি একটি দলগত চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করছেন সত্যজিৎ রায় মহাশয়কে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে। তার কিছু ছোট গল্প যেমন "মাটির প্রদীপ", "বিড়ম্বনা", "সেই ভালো" ইত্যাদি এবং "কেন এই ছবি আঁকা" ,"সেই চেনা নদীর ঘাট","বারণ", "সমতুল্য" ... কবিতা গুলো ইতিমধ্যে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এবার তাঁর কলমে উঠে এসেছে অন্তরের অন্তর্লীন কথারা। এসে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র "সত্তা"র রূপ ধরে।


Comments