স্ত্রীপর্ব: অম্বা চরিত্র(১)
১.
কাশীরাজ কন্যা অম্বা মহাভারতের এক অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ স্ত্রী চরিত্র। অম্বার কাহিনী মহাভারতের আদি পর্বে থাকলেও, বলা বাহুল্য যে বেশিরভাগ অম্বার কাহিনী উদ্যোগ পর্বে অম্বা উপাখ্যানে ভীষ্মের প্রথম ব্যক্তি আখ্যানে ( first person narration) আমরা জানতে পাই। কিন্তু অম্বার জীবনে যা কিছু বিপর্যয় নেমে এসেছে তা তো ভীষ্মের কারণে ? আমরা হতাশ হতে পারি কারণ আমাদের মনে হতে পারে যে অম্বার প্রথম ব্যক্তি আখ্যানে তার নিজ কাহিনী শুনলেই বোধ হয় ভাল হত। তবে ভীষ্মের প্রথম ব্যক্তি আখ্যান দ্বারা অম্বার কাহিনী বর্ণনার এক বিশেষ তাৎপর্য মহাভারতে আছে বলে আমি মনে করি। Wayne C Booth, আমেরিকান লিঙ্গুইস্ট unreliable narrator শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন । আমার মতে এই অম্বা উপাখ্যানে ভীষ্ম একজন unreliable narrator। Unreliable narrator কে আমরা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না এবং তাই তার কথনের মধ্যে সেই ঘটনার অসঙ্গতি গুলি বেরিয়ে আসে।Unreliable narrator এর গুরুত্ব পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগান এবং তাই আমার মনে হয় বেদ ব্যাস এটি ইচ্ছাকৃত করেছেন। তার কারণ যেহেতু আমরা অম্বার কাহিনী বৈশম্পায়ন এবং ভীষ্মের উক্ত আখ্যানে শুনি সেই কাহিনীর বাস্তবতা আরো বেশি ভয়ানক হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে । আর আমরা তাই এত হাজার বছর পরও অম্বার প্রতি হওয়া অন্যায় নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকি।
বিভিন্ন রিটেলিং ভীষ্ম ও অম্বার এক প্রণয় সম্পর্ক দেখিয়ে বা এক প্রণয় সম্পর্কের সম্ভাবনা দেখিয়ে অম্বার প্রতি অন্যায়ের ভয়ানক বাস্তবতা থেকে পাঠকদের স্বস্তি দিতে চেয়েছেন । কিন্তু মহাভারতের বাস্তবতা চরম ও সত্য। অম্বা মহাভারতের কাহিনীতে বার বার ফিরে আসেন। সেই রাজসূয় যজ্ঞ যার পরিণাম হবে এক ভয়ানক যুদ্ধ,বেদব্যাস তা আগেই যুধিষ্ঠির কে বলেছেন, সেই রাজসূয় যজ্ঞে শিশুপালের হত্যার পূর্বে অম্বার কথা আসে। এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অম্বার শিখণ্ডী রূপে প্রত্যাবর্তন ভীষ্মের মৃত্যুর কারণ হয় কারণ প্রথম কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ পরশুরাম ও ভীষ্মের মধ্যে হয়েছিল অম্বার কারণে। আর এটা নিছক কাকতালীয় নয় যে ভীষ্ম পর্বের পূর্বে উদ্যোগ পর্বের শেষ উপাখ্যান অম্বা উপাখ্যান। এটি বিশদ আমি পরবর্তী পর্বে বিশ্লেষণ করব।
ভীষ্ম পিতার জন্য সিংহাসন ত্যাগ করেছেন এটি আমদের জানা। তার পরবর্তী রানী সত্যবতীর দুই পুত্র সন্তান হয় । প্রথম চিত্রাঙ্গদ এক গন্ধর্বর সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হন । পরবর্তী পুত্র বিচিত্রবীর্য খুব কম বয়সে রাজা হন । মহাভারত থেকে বোঝা যায় যে তার স্বাস্থ্য খুব বেশি ভালো ছিল না তিনি একরকম নামমাত্র রাজা ছিলেন । এবং ভীষ্ম রাজ্যরক্ষা ও রাজ্য পরিচালনা সত্যবতী সামলাতেন । এর মধ্যে সময় হয় সদ্য যুবক বিচিত্রবীর্যের জন্য বিবাহ যোগ্য পাত্রী খোঁজের। প্রধান কারণ অবশ্যই বংশ রক্ষার প্রয়োজন। তখন কাশী রাজের তিন কন্যার স্বয়ংবরের কথা ভীষ্ম শোনেন। এবং সত্যবতীর আশীর্বাদে তিনি কাশী পৌছান। কাশিরাজের তিন কন্যা অম্বা অম্বিকা অম্বালিকা। জ্যেষ্ঠা কন্যা অম্বা শাল্ব রাজের বাগদত্তা ছিলেন ।
এবার আরেকটি প্রশ্ন মনে হতে পারে সেটি হল যে যখন অম্বা আরেক জনের বাগদত্তা তবে তার এই স্বয়ংবরে অংশ গ্রহন করার দরকার কি? এটি কিছুটা তখনকার রাজনীতি, অর্থাৎ যে কাশীরাজের কন্যাদের বিবাহ করবেন তার রাজ্যের সঙ্গে কাশী রাজের এক সামরিক জোট হবে। এবং অপরদিকে যত খ্যাতনামা ও শক্তিশালী রাজ্যের সঙ্গে সামরিক জোট হবে তত কাশী রাজ্যের সুবিধা। যেমন দ্রুপদ যেরকম অর্জুন কে চাইতেন । আবার এও হতে পারে যে যদিও মহাভারতে নেই যে অম্বা সবথেকে সুন্দরী ও বুদ্ধিমতি ছিলেন তাই তাকে সামনে রেখে তাবড় তাবড় ক্ষত্রিয় কে স্বয়ংবরে আনার এক পরিকল্পনা থাকতে পারে I যাই হোক অম্বার এই স্বয়ংবরে কোন অসুবিধা বোধ হয়নি কারণ তিনি ভেবেছিলেন যে তিনি শাল্বের গলায় মাল্য দান করবেন। কিন্তু সেই স্বয়ংবরে এসে উপস্থিত হলেন ভীষ্ম।
ভীষ্ম বীর্যশুল্ক কে স্বয়ংবরের থেকেও বিবাহের শ্রেষ্ঠ উপায় ঘোষণা করেন এবং তিন কন্যাকে হরণ করে রথে চাপিয়ে চলে যান।
'রাজারা স্বয়ংবর বিবাহ কেই অধিক প্রশংসা করেন I পরাক্রম প্রদর্শনপূর্ব্বক অপহৃত কন্যার পানিগ্রহীতাকে ধর্ম্মবাদীরা ভূয়সী প্রশংসা করিয়াছেন : অতএব হে মাহিপালগণ ! আমি বলপূর্ব্বক ইহাদিগকে হরণ করি ; তোমরা যুদ্ধ অথবা অন্য যে কোন উপায় দ্বারা পার, ইহাদিগের উদ্ধার সাধনে যত্ন কর I আমি যুদ্ধার্থে প্রস্তুত আছি I’ (মহা:১৩৯)
বীর্যশুল্ক প্রসঙ্গে উমা চক্রবর্তী (Chakraborty:34-41) বলেছেন যে ক্ষত্রিয়দের কাছে দান জিনিসটি ব্রাত্য হয়ে উঠেছিল তাই যেখানে মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের বর নির্বাচন করতেন তার জায়গায় এল বীর্যশুল্ক অর্থাৎ পুরুষরা যুদ্ধ করে সেই কন্যাকে বিজয়ী হবেন। দান না নেওয়া মহাভারতে আসবে আবার উদ্যোগ পর্বে। এবং এই অহংকার ও ক্ষমতা সম্পন্ন চিন্তা সরাসরি হয়ে উঠবে যুদ্ধের কারণ I
এরপর সকল রাজারা নানা প্রকার অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে দ্রুতগামী রথে আহরনপূর্বক ভীষ্মের রথের পশ্চাৎ নিজ নিজ রথ ধাবমান হলেন। ভীষ্ম একাই সকল রাজাদের নিজের পরাক্রমে যুদ্ধে পরাজিত করে কন্যাত্রয় রথে হাস্তিনা দিকে অগ্রসর হলেন। তখন শাল্ব আর না থাকতে পেরে ভীষ্মের পথ অবরোধ করে বসলেন এবং ঈর্ষা ও ক্রোধবশত ভীষ্ম কে বললেন তিষ্ট তিষ্ট।
এরপর শাল্ব বানবর্ষণে ভীষ্ম কে অতিশয় পীড়িত করলে তখন ভীষ্ম নিজ সারথি কে শাল্ব রাজের কাছে রথ নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন । এদের দুজনের ভীষণযুদ্ধের বর্ণনা ব্যাস পশু উপমা দ্বারা করেছেন । এক উন্মত্ত হস্তি যে অন্য হস্তিকে দন্ত দিয়ে উরুতে আঘাত করে হস্তিনীর দিকে অগ্রসর হন তেমনি যেন শাল্ব ভীষ্মের দিকে এগিয়ে গেলেন । এদের যুদ্ধ যেন বৃষদলের এক গাভীকে লক্ষ্য করে পশুতর রোষ আর আক্রমণ । এই মাতঙ্গ , বৃষ ও গাভী উপমার তাৎপর্য আমি পরে বিশ্লেষণ করব । তবে এখন আপাতত এইটুকু বলতে চাই যে এই পশুসুলভ কামাক্ত যুদ্ধ যে অম্বার মনের প্রেম যার ভিত্তি ওনার নিজ স্বাধীন চিন্তার প্রতি আস্থা তার বিপরীতে যাবে তা মহাভারত উপমা দিয়ে আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ।
এরপর ভীষ্ম দিব্যাস্ত্র দ্বারা শাল্ব পরাজিত করেন এবং শাল্বকে পরাজিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে নিজ রাজ্যে রাজ্য শাসন করতে আরম্ভ করলেন ।ভীষ্ম তিন কন্যাকে নিয়ে হস্তিনাপুরে পৌঁছলে তাদের বিবাহের আয়োজন শুরু হয় । অম্বা তখন ভীষ্মকে জানান যে তিনি বিচিত্রবীর্য কে বিয়ে করতে পারবেন না কারণ তিনি শাল্বের বাগদত্তা এবং এটি তার পিতা দ্বারা অনুমোদিত ছিল ।
' আমি ইতিপূর্বে মনে মনে শাল্ব রাজকে পতিত্বে বরন করিয়াছি ' এবং ' অধিক কি বলিব আমি স্বয়ংবর সভায় মনে মনে মহাপতি শাল্বের করে করার্পন করিয়াছি I’ (মহা:১৪০)
ভীষ্ম ব্রাহ্মণদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে অম্বাকে কিছু সংখ্যক ব্রাহ্মণদের সঙ্গে শাল্বর রাজ্যে পাঠান এই অবধি কাহিনি আদি পর্বে ।
এবার একটা কথা বলা দরকার যে এখানে অম্বা বার বার তার মনের উপর জোর দিচ্ছেন তাই অম্বার জীবন দর্শন আমরা বুঝতে পারছি I আমরা এটা বলতেই পারি যে অম্বা কি জানত না যে শাল্ব তাকে গ্রহণ করবে না ? না এটা অম্বার পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিল না কারণ অম্বার জীবন দর্শনে কেউ তাকে হরণ করলেও তার মনের কথায় শেষ কথা হবে , তার প্রাধান্য বেশি যা ভীষ্ম বা ভীষ্মের ধরনের সংস্কারমন্যদের কাছে বিপদজ্জনক I অর্থাৎ যে কন্যা হরণ হয় তার মনের কথা যদি শেষ কথা হয় তবে ভীষ্মের জয়ের কি বা মানে থাকে I স্বয়ংবরের নিয়ম হল পাত্রী যাকে নিজে বেছে নেবে সেই তাকে বিবাহ করবে । অম্বা এখনও এই নিয়ম ধরে আছেন । তাই তার কাছে ভীষ্ম তাকে হরণ করেছেন এবং তিনি হস্তিনাপুরে এসেছেন এটা তার শাল্ব রাজের সঙ্গে মিলনে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে সেটা তিনি বোঝেন না। আগেও আমরা দেখেছি রাজারা প্রেমে তাদের প্রেমিকাদের কাকুতি মিনতি করছেন যেমন পুরুরুবা বা শান্তনু । কিন্তু ভীষ্মই এই বীর্যশুল্কের প্রত্যাবর্তন করেছেন I আবার এইটাও মনে রাখতে হবে যে অম্বা শব্দের অর্থ মাতা আর ভীষ্মর মহাভারতে প্রত্যাবর্তন হয়েছে নদীর জলে তীর নিক্ষেপ করে তার গতিবেগ রোধ করে । তাই ভীষ্ম প্রাকৃতিক প্রজনন বিরোধী এবং অম্বা ও ভীষ্ম তাই পরস্পর বিরোধী।
২.
এর পরবর্তী কি হয় আমরা জানি ভীষ্মের দূর্যোধন কে উক্ত অম্বা উপাখ্যানে উদ্যোগ পর্বে। এখানে অম্বা অনেক প্রার্থনা করা সত্ত্বেও শাল্ব অম্বাকে গ্রহণ করতে রাজি হননি ।
শাল্ব বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে যে অম্বা ইচ্ছাকৃত ভীষ্মের সঙ্গে গেছেন। এবার শাল্বের কথা গুলি আমরা যদি দেখি তিনি বলছেন : ' তুমি অন্যপূর্ব্বা হইয়াছ ;আমি আর তোমার পানিগ্রহণ করিব না । (ভীষ্ম) বলপূর্ব্বক তোমার কর গ্রহণ করিয়াছেন ; (মহা:উদ্যোগ:২৯৬)
এই অবধি ঠিক আছে যদিও শাল্ব বিচিত্রবীর্য নয় ভীষ্ম কে অম্বার পাণীপ্রার্থী মনে করছেন । শাল্ব বীর্যশুল্কের নিয়ম বলছেন । কিন্তু সমস্যা (problematic) হল যখন তিনি বলছেন ‘তুমি তৎকালে ভীষ্মের প্রতি অনুরক্ত হইয়াছিলে;’ (মহা:উদ্যোগ:২৯৬)
অম্বা তা বারবার খণ্ডন করার চেষ্টা করেন এই বলে যে তিনি জানান যে তিনি তখন ক্রন্দন করছিলেন কিন্তু শাল্ব তা গ্রাহ্য করেন না ।
‘ইহা কখনও সঙ্গত হতে পারেনা । আমি ভীষ্মের প্রতি প্রীতিমহি নহি; এ নিমিত্ত আমি অবিরল বাস্পাকূল রোদন করিতেছিলাম। তিনি (..) বলপূর্বক আমাকে গ্রহন করিলে আমার কিছুমাত্র অপরাধ নাই (মহা: উদ্যোগ:২৯৬) ।’
‘আমি আত্মা কে স্পর্শ করিয়ে কোহিতেছি আমি অন্যপূর্বা নই।’(মহা:উদ্যোগ:২৯৬)।
শাল্বর এই মিথ্যাচার নিয়ে আলোচনার আগে একটা কথা লিখছি, শাল্ব অম্বার বক্তব্যকে খণ্ডন করছেন দুটি যুক্তিতে : একটা বীর্যশুল্ক আর আরেকটা স্বয়ংবর। প্রথমটি ভীষ্ম তোমাকে হরণ করেছে তাই আমি তোমাকে বিবাহ করতে পারব না। এটা হচ্ছে বীর্যশুল্কর যুক্তি যেখানে মেয়েটির কোনও মতামত থাকে না। দ্বিতীয় স্বয়ংবর যেখানে তিনি বলছেন অম্বা স্বেচ্ছায় গেছেন । কিন্তু ওনার নিজের কথায় অসঙ্গতি আছে । বলপূর্বক যদি কেউ কোনও মেয়েকে হরণ করে তাহলে সেটা স্বইচ্ছায় যাওয়া হয় কি করে? কিন্তু তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল এই স্বয়ংবরের আদর্শ অম্বা মানেন নি এইটি শাল্বকে বলতে হচ্ছে । তিনি শুধু বীর্যশুল্ক অনুজেই অম্বা অন্যপূর্বা করতে হবে কারণ বীর্যশুল্ক পুরোপুরি স্বীকৃত হয়নি । অম্বার কাছে নয় এবং ওনার নিজের কাছেও না ।এবং এই বিষয়ে তিনি ভীষ্ম নন।
এবং স্বয়ংবরের আদর্শ অনুজে যেটা অম্বা মানেন অম্বা যদি তাকে মনেমনে স্থির করে থাকেন এবং তিনি তার পিতার অনুমতি নিয়ে থাকেন তাহলে এখন অম্বাকে গ্রহণ করার এক নৈতিক কথা আসে। তাই এর থেকে বেরোনোর ও ক্ষত্রিয় হয়ে নিজের সম্মান রক্ষার শ্রেষ্ঠ উপায় অম্বার চরিত্র হনন। নাহলে ভীষ্ম বা ব্রাহ্মণদের সঙ্গে কথা বলে অম্বা কেন যেতে দিলেন কি করে। কারণ নিশ্চয় একটা আইনের জায়গা ছিল। শুধু তুমি কুরুবংশ কে চাও না এবার তোমার যা ইচ্ছে হোক এই মনোভাপন্ন ভীষ্ম বা ব্রাহ্মণদের ছিল বলে মনে হয় না ।
শাল্বর এই মিথ্যাচারকে অনেকে মিথ্যাচার হয়ত না মনে করতে পারেন তাই এই ভীষ্মের সঙ্গে অম্বার প্রণয় ইত্যাদি লেখেন । বৈশাম্পায়ানের কাহিনীতে মহাভারত যেটা করেছে সেটা হল শাল্ব ও ভীষ্মের যুদ্ধের সময় অম্বা বা কাশী কন্যাদের কথা উল্লেখ করেনি । অর্থাৎ ওটা একটা এখন কার deleted footage এর মত। তাই এটা আমাদের ভীষ্মের উক্তি দিয়ে শাল্ব ও অম্বার কথপোকথনে বুঝতে হচ্ছে। এবং মহাভারত তৎক্ষণাৎ আমাদের বুঝিয়ে দেয় শাল্বের এই মিথ্যাচারের ফাঁদে না পড়তে। I একটি তো অম্বা নিজে কে ধিক্কার দিচ্ছিলেন, রথ থেকে আমার হয়তো ঝাঁপ দিল ভালো হত। কিন্তু সেটানয়। পরিষ্কার শাল্বের মুখচ্চারণ:
‘আমি তাহার (ভীষ্ম ) বলবীর্যে নিতান্ত ভীত ও শঙ্কিত হইতেছি ।’ (মহা:উদ্যোগ: ২৯৬)’ শাল্বর ভীষ্মের প্রতি ভয় আর কিছু না আর এ হল কাপুরুষের ভয় অসহায়ের ভয় নয়। এই ধরনের মানুষের প্রথম প্রবৃত্তি হল নিজেকে দায়ী না করা। আর তাই অম্বা ভীষ্মকেই এই সর্বনাশের জন্য দায়ী করেন ।
মহাভারত বলছে যে এরপরে অম্বা স্থির করেন যে তিনি তার পিতার কাছে যাবেন না পিতাকে নানা রূপ দোষারোপ করতে থাকেন । অম্বা বলেন
‘পিতাকে ধিক কারণ তিনি আমাকে বীর্যশুল্ক করিয়াছেন বলিয়া আমি সকলের ত্যাজ্য হইয়াছি। ‘ (মহা:উদ্যোগ: ২৯৬)
অনেকের ধারণা যে এরপর অম্বা হস্তিনাতে ফিরে যান এবং ভীষ্মকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। এটি ঠিক নয়। অম্বা এরপর তপস্বীদের কাছে পৌঁছান ।
ক্রমশ
Comments
Post a Comment